বিদ্যানন্দের ইফতার ও আমাদের সম্প্রীতি।

ঘুম থেকে উঠেই রেপুটেড অনলাইন নিউজপোর্টাল “পুর্ব-পশ্চিম” তে “রাজধানীতে এক টাকায় ইফতার সেহরি দিচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন” এই শিরোনামে একটা নিউজ চোখে পড়লো। খবরটি পড়ে জানা গেল মূলত বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমারের উদ্যোগে চালু করা হয় এই ‘এক টাকায় আহার’ প্রকল্পটি। ঘরোয়া পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হয় এই খাবার। একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক এসব খাবার বিতরণ করেন রাজধানীর বিমানবন্দর, গাবতলী, মিরপুরের মাজার রোডে, কড়াইল বস্তি এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে। দেশ ও ধরায় সব জায়গায় যখন ধর্মীয় দলাদলি, বাড়াবাড়ি, উগ্রতা চরমে তখন এই ধরনের নিউজ পরম আনন্দ দেয়, শান্তির যোগান দেয় আর আশা জাগায়।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুব আশাবাদী মানুষ। আমি নিজেকে একজন অসাম্প্রদায়িক মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেই এবং বিশ্বাস করি।আমি জানি ইসলামে সো কল্ড সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই।আমাদের মাঝে ধর্মীয় উগ্রতার নামে যেসব অপব্যাখ্যা আছে তা আমি মহান আল্লাহ এর বর্ণীত নিচের লাইনটি বর্নানার মাধ্যমে উড়িয়ে দেই- “আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।” {সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত : ৮} ইসলাম কখনোই অন্য ধর্মকে ছোট করতে কিংবা অন্য মতাদর্শকে অশ্রদ্ধা করতে বলেনি বরং আল্লাহ তা‘আলা ঈমানের দাবিদার প্রতিটি মুসলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন পরমতসহিঞ্চুতা ও পরধর্মের বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। আল্লাহ ইরশাদ করেন- “তারা আল্লাহ তা‘আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহ তা‘আলাকেও গালি দেবে, আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতঃপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে’।” {সূরা আল আন‘আম, আয়াত : ১০৮} রোজা আমাদের শিক্ষা দেয় সংযমী হতে,সহিঞ্চু হতে আর অপরের দুঃখ বুঝতে। সারা দিন উপোষ করে যেমন না খেয়ে থাকা মানুষ এর কষ্ট বুঝার তাগিদ দেয় তেমনি অন্য ধর্মের লোকদের গালি দিলে কিংবা অশ্রদ্ধা করলে তাদের যে কষ্ট হয় নিজের ধর্মকেও অন্যধর্মের কেউ গালি দিলে একই কষ্ট হবে সেই শিক্ষাও এই রোজার মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে হবে। যুগযুগ ধরে চলে আসা এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিমের যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তা যেন আমাদের উগ্রতা নষ্ট করে না দিতে পারে। এইসব কিশোর কুমারেরা ছিলো,আছে থাকবে। আমাদের ইসলামের মধ্যেও এমন শত লোক ছিলো, আছে এবং থাকার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। রমযানে এই হউক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

 

লেখক: মুহম্মদ আল ফাহাদ

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *