১৬ বছর ধরে দুস্থদের মাঝে ইফতার বিলায় সবুজবাগ বৌদ্ধ বিহার

ইফতারের পসরা সাজিয়ে বিহারের প্রধান ভিক্ষু বসে গেলেন। টেবিলে থরে থরে সাজানো ইফতারের প্যাকেট। আসরের আজান ভেসে আসছে পাশের কোনো মসজিদের মাইক থেকে। বিহারের গেট খুলে দেয়া হয়েছে আজানের খানিক আগেই। টোকেন হাতে নিয়ে দীর্ঘ সারি রোজাদার দুস্থ মুসল্লিদের। তবে তাদের বেশিরভাগই নারী।

সুনশান নীরবতা বিহারে। টোকেন দেখে এক এক করে বিতরণ শুরু হলো ইফতারের প্যাকেট। কোনো প্রকার হট্টগোল ছাড়াই মুহূর্তেই ফুরিয়ে গেল ইফতারের প্যাকেট। বাকি রইল না রোজাদার একজনও।

পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় দিন সোমবার, কমলাপুর সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের চিত্র এমনই। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য ময়দান এটি। ধর্ম নয়, সেখানে মানুষ-ই বড়। মানুষের সেবা দিয়েই যে ঈশ্বরের সেবা মেলে, তা এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করে চলছে।

১৬ বছর ধরে রোজাদার দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করে আসছে সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার। প্রতিদিন প্রায় পাঁচশ রোজাদার এখান থেকে ইফতার সংগ্রহ করেন।

৭০ বছর বয়সী রাহেলা বেগম। সবুজবাগেই বাসাবাড়িতে কাজ করেন। রাতে ঘুমান ফুটপাতে। গোটা রমজান মাসই এখান থেকে ইফতার সংগ্রহ করেন রাহেলা। এভাবে প্রায় ১১ বছর পার করেছেন তিনি।

রাহেলা বলেন, ‘হোটেল থাইক্যা ইফতার কেনার তো আর আমাগো সামর্থ নাই। বানানোর সামর্থও নাই। যহন থাইক্যা এনে থাহা শুরু করছি, তহন থাইক্যাই ইফতার পাই। ইফতারের জন্য বাড়তি চিন্তা নাই আমাগো।’

 

 

ইফতার নিতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা টাকার অভাবে ইফতার কিনতে পারে না, তাদের ঠিকানা এ বিহার। বৌদ্ধরা দিচ্ছে বলে ইফতার নেয়া যাবে না, আমরা এ নীতি মানি না। গরীবের জন্য এসব নিয়ম কাজে আসে না।’

ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের সভাপতি সংঘনায়ন শুদ্ধানন্দ মহারেথ। ৮৬ বছর বয়সী এ ভিক্ষুর জীবন কাটছে মানুষের সেবায়। বিহারকে দুস্থদের ঠিকানায় রূপ দিয়েছেন তিনি।

ইফতার বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ধরে রোজাদার মুসলামানদের মাঝে আমরা ইফতার বিতরণের আয়োজন করছি। মুসলমানদের সংযমের মাস রমজান। তাদের কাছ থেকেও আমরা সংযম শিখি। সবার আগে মানুষ। পরে ধর্ম। সব ধর্মই সম্প্রীতির কথা বলে। এ সম্প্রীতি বজায় রাখলেই বিশ্ব শান্তিময় হবে।’

 

সৌজন্যে: https://www.jagonews24.com/

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *